জ্বালানি সংকটে বন্ধ দেশের ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং

Published: October 8, 2026, 5:01 am

জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে দেশের ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে, যার ফলে সারাদেশে প্রতিদিন দিনে ও রাতে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্যাস ও তরল জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তেলচালিত কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ২৫ টাকা, কয়লাচালিত কেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৪ টাকা এবং গ্যাসচালিত কেন্দ্রে প্রায় সাত টাকা খরচ হয়। সবচেয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানি গ্যাস হলেও এর জোগান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি আমদানির মাধ্যমে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়া এবং গ্যাস আমদানির অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে রাতারাতি এই সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট চাহিদা ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বুধবার (৭ অক্টোবর) সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৮৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ালে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা রফতানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পিডিবি'র ৭ অক্টোবরের উৎপাদন চিত্র অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে ঘোড়াশালের চারটি ইউনিট (১ হাজার ১৫৩ মেগাওয়াট), ভেড়ামারা (৪১০ মেগাওয়াট), বাঘাবাড়ী (৭১ মেগাওয়াট) এবং সিরাজগঞ্জের তিনটি ইউনিট (২২৫ মেগাওয়াট) সহ মোট ১ হাজার ৩৯৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এছাড়া তরল জ্বালানি সংকটের কারণে গোপালগঞ্জ (১০০ মেগাওয়াট), চৌমুহনী (১১৩ মেগাওয়াট) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ (১০০ মেগাওয়াট) কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ (২১০ মেগাওয়াট), টঙ্গী (৮০ মেগাওয়াট), আশুগঞ্জ ইস্ট (৪০০ মেগাওয়াট) এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিটসহ (৫২৪ মেগাওয়াট) মোট ছয়টি ইউনিট বন্ধ আছে। এছাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় হরিপুর (৩৬০ মেগাওয়াট), মেঘনাঘাট (৪৫০ মেগাওয়াট) ও ভেড়ামারা (২০ মেগাওয়াট) কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেয়া হচ্ছে না। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শাহজীবাজার ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রটিও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি হরিপুর ৩২ মেগাওয়াট, চট্টগ্রাম ৪২০ মেগাওয়াট, সিকলবাহা পিকিং ১৫০ মেগাওয়াট, সিলেট ২০ মেগাওয়াট, সৈয়দপুর ১৫০ মেগাওয়াট এবং বড়পুকুরিয়ার কয়লাচালিত সব ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ ২১০ মেগাওয়াট, টঙ্গী ৮০ মেগাওয়াট, আশুগঞ্জ ইস্ট ৪০০ মেগাওয়াট এবং বড়পুকুরিয়ার ২৫০ ও ২৭৪ মেগাওয়াটের দুটি কেন্দ্রসহ মোট ছয়টি কেন্দ্র বা ইউনিট থেকে উৎপাদনের সম্ভাবনা নেই। এসবের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh