মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর: বাগদাদ ও মাস্কাটের সব ফ্লাইট বাতিল করল ইরান

Published: September 23, 2026, 4:19 am

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে মধ্যরাত থেকেই তেহরান থেকে ওমানের মাস্কাট ও ইরাকের বাগদাদগামী সব নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ইরান। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, বুধবার থেকে বিশ্বব্যাপী ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন এই মার্কিন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, বিশ্বের কোথাও ইরানের কোনো উড়োজাহাজ অবতরণ করলে সেটিকে কোনো ধরনের জ্বালানি, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা কিংবা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া যাবে না। এই নিয়ম অমান্যকারী যেকোনো সংস্থাকে তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। যদিও আন্তর্জাতিক আকাশসীমা সরাসরি বন্ধ করার আইনি এখতিয়ার ওয়াশিংটনের নেই, তবে বিমানবন্দরগুলোতে জ্বালানি ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারীদের ওপর এই মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞার চাপ ইরানি ফ্লাইটগুলোকে কার্যত মাটিতে বসিয়ে দিতে বাধ্য করছে।

এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় ওমান ও ইরাকের সঙ্গে জরুরি কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলো সাময়িকভাবে ইরাকের নাজাফ বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ওমানের সঙ্গেও বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তেহরান দাবি করেছে, ইস্তাম্বুলসহ কয়েকটি রুটে তাদের বিমান চলাচল এখনও সচল রয়েছে। এর আগে গত ৮ই সেপ্টেম্বর ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন্সের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ওয়াশিংটন। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটির প্রধান বিমান সংস্থা ইরান এয়ার, মাহান এয়ার ও কেশম এয়ারের বহু উড়োজাহাজ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় পর্যটন ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে ইরাক এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করতে পারে। এছাড়া বিশাল সীমান্ত ও দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানও এই মার্কিন নির্দেশ পুরোপুরি মানতে আগ্রহী নাও হতে পারে। অন্যদিকে, চীন এই একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং রাশিয়াও এই নির্দেশ উপেক্ষা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুরস্ক এই বিষয়ে একটি সমঝোতার চেষ্টা করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ওয়াশিংটনের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলার পথেই হাঁটতে পারে।

এই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ ইরানি যাত্রীদের ওপর, যাদের ভোগান্তি এখন চরমে। ইতোমধ্যে বিমানের টিকিটের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ইরানি পরিবারগুলোর আয় যখন প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, তখন আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের স্থল বা সমুদ্রপথে বিকল্প দেশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। মূলত ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বের অনেক বিমানবন্দরই এখন ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোকে সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin