কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পের কাজের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে, যার প্রভাব এখন উচ্চশিক্ষা খাতেও স্পষ্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন এআই বিভাগ চালু এবং উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বাড়াতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ভিন্নধর্মী কৌশল অবলম্বন করছে। তারা কেবল এআই-সংক্রান্ত শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং উচ্চশিক্ষার মৌলিক কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কী শেখানো উচিত, তাদের দক্ষতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের একান্ত নিজস্ব বলে বিবেচিত অনেক কাজ করে ফেলতে পারলে কোন ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতার মূল্য বজায় থাকবে—এসব মৌলিক বিষয়কে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশটির অবস্থানের ওপরও এসব পরিবর্তনের প্রভাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ) এআই শিক্ষাকে কেবল প্রকৌশল ও কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের গণ্ডিতে আটকে না রেখে কলা ও মানবিকবিদ্যাসহ সব বিষয়ে শিক্ষার অংশ করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য হলো, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের স্নাতক পর্যায়ের ৫২টি ডিগ্রি কর্মসূচির ৪০ শতাংশ পাঠ্যক্রমে এআই অন্তর্ভুক্ত করা। বর্তমানে এই হার মাত্র ৫ শতাংশ।
এই উদ্যোগের আওতায় থাকা কোর্সগুলোর অর্ধেক অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। বাকি অর্ধেক অংশে শিক্ষার্থীদের এআই এজেন্ট তৈরি ও পরিচালনা শেখানো হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বাস্তব শিল্পখাতের বিভিন্ন প্রকল্পে ভার্চ্যুয়াল দলের সদস্য হিসেবে এআই এজেন্টের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
এনটিইউর প্রেসিডেন্ট হো টেক হুয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এআই বিশেষজ্ঞ বানানো নয়। বরং শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব পড়াশোনার ক্ষেত্রের জ্ঞানের সঙ্গে এআই ব্যবহারের দক্ষতা যুক্ত করতে পারবে—এমন স্নাতক তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, আমরা চাই একজন স্নাতক নিজস্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি এআই এজেন্টগুলোকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হোক।





