ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। এর জেরে ইসরায়েল ছাড়ছেন কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন ব্রিটিশ কূটনীতিক। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত দীর্ঘ ২০০ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেলের নাম পরিবর্তন করে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ রাখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ব্রিটেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সমঝোতা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল আর আগের কাঠামোয় তাদের কার্যক্রম চালাবে না। কনস্যুলেট ভবন থেকে ইতিমধ্যে ‘ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল’ লেখা ফলক ও কনস্যুলার বিভাগের সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ভবনটি ব্রিটিশ সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি হওয়ায় সেখানে মাত্র সাতজন কূটনীতিক নিয়ে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু রাখা হবে, তবে এটি আর কনস্যুলেট হিসেবে কাজ করবে না। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই তাদের নীতি।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে জানান, জেরুজালেমে প্রায় ২০০ বছর ধরে থাকা ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করার কোনো আইনগত অধিকার ইসরায়েল সরকারের নেই এবং যুক্তরাজ্য এটি মেনে নেবে না। পূর্ব জেরুজালেম একটি দখলকৃত ভূখণ্ড—লন্ডনের এই দীর্ঘদিনের অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। মিলিব্যান্ড জানান, নতুন নাম ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নিয়ে এই কার্যালয়টি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে তাদের ইসরায়েল থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জেরুজালেমে কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনর্গঠনে লন্ডন কাজ করছে।
এই উত্তেজনার জেরে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাজ্য চাইলে ২৭ জন ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করতে পারত। তবে নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, লন্ডনে কর্মরত ইসরায়েলি কূটনীতিকদের সবাইকে নিজ নিজ পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আলোচনা চলাকালে কোনো ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মিলিব্যান্ড। তিনি আরও জানান, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সমর্থনে গত ৮ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর প্রতি যুক্তরাজ্য দৃঢ়ভাবে অটল থাকবে।





