আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও রায় অবমাননার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দুই আওয়ামীপন্থী আইনজীবীর বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালত অবমাননা মামলার শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানির এই নতুন দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী আদালতে সশরীরে হাজির হন অভিযুক্ত দুই আইনজীবী—এম. হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী। সকালে তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে শতাধিক আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের বাইরে অবস্থান নেন। প্রসিকিউটর গাজী এম. এইচ. তামিম শুনানির এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য করেন অভিযুক্ত দুই আইনজীবী। তাদের একজন ফেসবুক পোস্টে ট্রাইব্যুনালকে ‘ক্যাঙারু কোর্ট’ এবং রায়কে ‘অবৈধ ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন। অপর আইনজীবী সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে রায় নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন।
বিষয়টি প্রসিকিউশনের নজরে এলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন দাখিল করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্যের লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী বুধবার সকাল ১০টার পর তারা আদালতে উপস্থিত হন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাসিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ওই মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এম. হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম. এইচ. তামিম।
এদিকে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ পিছিয়ে আগামী ১১ অক্টোবর পুনঃনির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।





