দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার পর এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ নামের তিনটি জাহাজ যাত্রী নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজগুলো চলাচল শুরু করেছে। গত বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত এই তিন জাহাজে ৭ শতাধিক টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নৌপরিবহন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনুমোদন এবং জেলা প্রশাসকের সম্মতির পর জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাহাজগুলো কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাচ্ছে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ছেড়ে গেছে। ফিরতি যাত্রায় এমভি বার আউলিয়া বেলা আড়াইটায়, এমভি কর্ণফুলি দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ বিকাল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ত্যাগ করবে। তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়া ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলি ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফ ৭১৬ জন যাত্রী বহন করতে পারবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও রাত্রিযাপন করতে পারবেন। দ্বীপে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া সৈকতে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, রাতে আলো জ্বালানো, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা এবং সৈকতে মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও খুশির আমেজ দেখা দিয়েছে।





