বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিনই যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি সেই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও ৯ অক্টোবর পল্টন মডেল থানার এসআই আবু সালেহ তাকে আবির হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আদালতে শুনানিকালে সুলতান মনসুর নিজের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ‘দুই বছর পর আমাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়েছে। ২০২২ সালের ঘটনার মামলার সঙ্গে আমি জড়িত। আমি ২২ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে দূরে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিলাম। আমি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছি, কিন্তু জামিন পাওয়ার পর গত তিন দিনে আমার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ১৯৬৮ সাল থেকে রাজনীতি শুরু করলেও তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো ফৌজদারি মামলা ছিল না। তিনি বর্তমানে পরিবার নিয়ে আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন বলে আদালতে উল্লেখ করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. হাসিব এবং রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ অংশ নেন। আদালত শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির মহাসমাবেশের প্রচারণার সময় কলাবাগান এলাকা থেকে আবিরকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ৭ ডিসেম্বর সমাবেশে যোগ দিলে পুলিশের টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের মধ্যে আবির গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসার পর বাসায় ফেরার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা তার বাসায় লুটপাট ও নির্যাতন চালায়। পরে তাকে কলাবাগান থানার হাজতখানায় নেওয়া হয় এবং পুলিশ তার বাবার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। আবির ২০২২ সালের ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সবশেষে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন।





