দিনাজপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা

Published: September 20, 2026, 9:00 am

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পর থেকেই ওয়ারিনা ফিহার কাছে রাতগুলো যেন দীর্ঘ মনে হচ্ছিল। এই বিশেষ দিনটির অপেক্ষায় ছিল সে। রোববার সকাল হতেই বাবাকে তাড়া দিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে মোটরসাইকেলে চেপে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিনাজপুরে পৌঁছায় ওয়ারিনা। মেয়ের এই উচ্ছ্বাস দেখে বাবা ওয়াহিদুজ্জামান জানান, অন্যদিন মা ঘুম থেকে তুললেও আজ সে নিজেই প্রস্তুত হয়েছে। পথে তারা ওয়ারিনার এক বন্ধুকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন।

‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজনে এবং শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দিনাজপুর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওয়ারিনার মতো প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। একাডেমি প্রাঙ্গণটি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। কেউ এসেছে মা-বাবার হাত ধরে, কেউবা বন্ধু বা ভাইবোনদের সঙ্গে। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে অনেকে আলিঙ্গনে মেতে ওঠে, আবার কেউ ব্যস্ত ছিল স্মৃতির ছবি তুলতে।

ঠাকুরগাঁও থেকে আসা আবদুল কবির বর্তমানে দিনাজপুরে থেকে উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে জানায়, অনেক দিন ধরে এমন অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় ছিল সে। ঠাকুরগাঁওয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও দিনাজপুরে কোচিং করার কারণে সে এখানেই নিবন্ধন করেছে।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর রংপুরের সাবেক নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফুল হক। এরপর অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সামনে স্বপ্ন দেখার সাহস, অধ্যবসায় ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল গেমস, অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নতুন বন্ধু তৈরির সুযোগ।

দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া বড় অর্জন হলেও জীবনে সফল হতে হলে ভালো মানুষ হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ, তাই স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়া যাবে না। প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক কে এম জাকারিয়া বলেন, এই উৎসব কেবল সংবর্ধনা নয়, এটি স্বপ্ন দেখানোর আয়োজন। ভবিষ্যতে এখান থেকেই দেশের নেতৃত্ব, গবেষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা উঠে আসবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবদুল জলিল আহমেদ, বন্ধুসভার উপদেষ্টা শাহজাহান সাজু, ডিসি রায়, প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম, বিরামপুর প্রতিনিধি নুরে আলম সিদ্দিকী ও আঞ্চলিক বিক্রয় কর্মকর্তা বেলালুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি মুনিরা শাহনাজ চৌধুরী। আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী শেষে স্থানীয় ব্যান্ডদল ‘ধূলিকণা’র সংগীত পরিবেশনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

এবারের আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ। সহযোগিতায় রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo