শ্রীপুরে পৌর অভিযান চলাকালে এক্সকাভেটর চাপায় ভিক্ষুকের মৃত্যু

Published: September 26, 2026, 1:23 pm

গাজীপুরের শ্রীপুরে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় এক্সকাভেটরের নিচে চাপা পড়ে সবুর আলী মুন্সি (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শনিবার শ্রীপুর পৌরশহরের গরুর বাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সবুর আলী মুন্সি শ্রীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাংনাহাটি গ্রামের মৃত খোদানছ আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন ভিক্ষুক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূইয়ার নেতৃত্বে পৌরসভার একটি দল ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গরুর বাজারের ময়লা অপসারণ করতে আসে। এ সময় সবুর আলী বাজার সংলগ্ন চৌরাস্তায় ভিক্ষা করছিলেন। অভিযানে ময়লা ও অবৈধ স্থাপনা পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত একটি এক্সকাভেটরের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে পৌরসভার লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে দুপুর ১টার দিকে তার অপারেশন করা হয়। তবে অপারেশন শেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনিক সরকার জানান, হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর বিছানায় নেওয়ার কিছু সময় পরই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ নিয়াজ শিশির নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।

নিহতের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার জানান, তার বাবা প্রতি হাটবারে শ্রীপুর বাজারে ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি বাজারে ভিক্ষা করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহতের স্ত্রী লিপি আক্তার জানান, সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামী পৌরসভার গাড়ির চাপায় আহত হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নাহিদ ভূইয়া জানান, ময়লা অপসারণ অভিযানের সময় এক্সকাভেটর চাপায় ওই ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই ব্যক্তি দুর্ঘটনার কারণে আতঙ্কিত হয়ে হৃদক্রিয়ার সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। পৌরসভার পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারকে যথাসম্ভব সহায়তা করা হবে। এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার সচিব বদিউজ্জামান বাদল ও এক্সেন সাহেদ আক্তারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy