গোড়ালি ব্যথায় শকওয়েভ থেরাপি: অস্ত্রোপচার ছাড়াই মিলবে মুক্তি

Published: September 21, 2026, 2:31 am

দৈনন্দিন জীবনে গোড়ালি ব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ এবং কষ্টদায়ক শারীরিক সমস্যা। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে প্রথম পা ফেলার সময় সুই ফোটার মতো তীব্র ব্যথা কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হাঁটতে গেলে কামড়ে ধরা গোড়ালি ব্যথার সাধারণ লক্ষণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে মূলত 'প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়াটিস' বা গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়া বলা হয়। দীর্ঘদিন এই ব্যথায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে আগে ব্যথানাশক ওষুধ বা স্টেরয়েড ইনজেকশনই ছিল প্রধান উপায়, যার অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে এখন অস্ত্রোপচার বা ওষুধ ছাড়াই এক্সট্রাকোর্পোরাল শকওয়েভ থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শকওয়েভ থেরাপি মূলত একটি অত্যাধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শাব্দিক তরঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুতে প্রয়োগ করা হয়। এটি তিনটি প্রধান উপায়ে কাজ করে। প্রথমত, শাব্দিক তরঙ্গের মাধ্যমে ব্যথার স্থানে নতুন রক্তনালি তৈরি হতে উদ্দীপনা জোগায়, যা রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, এটি শরীরের নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতাকে ত্বরান্বিত করে টিস্যু দ্রুত মেরামত করে। তৃতীয়ত, এটি গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট ক্যালসিয়ামের শক্ত আস্তরণ ভেঙে দিতে সাহায্য করে।

এই থেরাপির সাফল্যের হার দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। এটি একটি ওপিডিভিত্তিক চিকিৎসা, যার ফলে হাসপাতালে ভর্তি থাকার প্রয়োজন হয় না। থেরাপি দিতে কোনো অ্যানেস্থেসিয়া বা অবশকারী ইনজেকশনের প্রয়োজন নেই। সাধারণত রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ৩ থেকে ৫টি সেশনের প্রয়োজন হয়, যেখানে প্রতি সেশনে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট এবং সাধারণত সপ্তাহে একবার এটি প্রদান করা হয়।

বিশেষ করে ক্রীড়াবিদ, অতিরিক্ত ওজনের মানুষ এবং যারা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য এই চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর। তবে গর্ভবতী নারী, পেসমেকার লাগানো রোগী, তীব্র রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা বা ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা নিষেধ। তাই যেকোনো থেরাপি নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গোড়ালি ব্যথা অবহেলা করলে তা কোমর বা হাঁটু ব্যথার কারণ হতে পারে, তাই সঠিক সময়ে শকওয়েভ থেরাপি গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy