শীতলপাটির স্যান্ডেল বানিয়ে সাড়া ফেলেছেন রাবির চার শিক্ষার্থী

Published: September 20, 2026, 4:31 am

টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে বেড়ে ওঠা অপূর্ব কৃষ্ণ দে ছোটবেলা থেকেই মূর্তা বা বেতিগাছের তৈরি শীতলপাটি এবং এর কারিগরদের কাজের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। সময়ের পরিবর্তনে শীতলপাটির চাহিদা কমে যাওয়ায় কারিগরদের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অপূর্ব ভাবছিলেন, শীতলপাটিকে কেবল মাদুর হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে কীভাবে দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যে রূপান্তর করা যায়। এই চিন্তা থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে যাত্রা শুরু হয় ‘বুনন বাজার’ নামক একটি উদ্যোগের।

এই দলের সদস্য অপূর্ব কৃষ্ণ দে ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর সঙ্গে যুক্ত আছেন ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের আবির দে, মো. আশিক মিয়া ও চৌধুরী খুবাইব বিন করিম। তাঁদের এই সৃজনশীল যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট কোর্সটি বড় ভূমিকা রেখেছে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁরা ক্রেতার চাহিদা, বাজার বিশ্লেষণ, ব্যবসায়িক মডেল এবং ঝুঁকির দিকগুলো নিয়ে হাতে-কলমে কাজ করেছেন। খুবাইব বিন করিম জানান, একাডেমিক শিক্ষা তাঁদের আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে।

প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন আইডিয়া উপস্থাপন ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা ধারণাটিকে আরও সমৃদ্ধ করেন। দ্য আর্থ সোসাইটি ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় গ্রিন ভয়েস মাস্টার বুটক্যাম্প থেকে এক লাখ টাকা তহবিল পাওয়ার পর তাঁদের পণ্য তৈরির কাজ শুরু হয়। তবে শীতলপাটিকে স্যান্ডেলে রূপান্তর করা সহজ ছিল না। বুনন, আকার, কাটিং এবং স্ট্র্যাপের অবস্থানের মতো কারিগরি বিষয়গুলোতে তাঁদের দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হয়েছে। স্যান্ডেল তৈরির উপযোগী শীতলপাটি তৈরি করে সেটিকে পায়ের আকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে ৬৫০ টাকা মূল্যে এই স্যান্ডেল বিক্রি করছেন উদ্যোক্তারা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাঁরা বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হওয়ার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব আয়োজিত প্রতিযোগিতায় সেরা ৮-এ জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা। এছাড়া বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারেও তাঁদের এই উদ্যোগ প্রদর্শিত হয়েছে। প্রতিযোগিতার সুবাদে আকিজ রিসোর্সেসের পৃষ্ঠপোষকতায় চারজন ইন্টার্নশিপের সুযোগও পেয়েছেন।

ভবিষ্যতে শুধু স্যান্ডেল নয়, বরং ব্যাগ ও ঘর সাজানোর উপকরণ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এছাড়া প্রশিক্ষিত কারিগরদের নিয়ে ক্লাস্টারভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। খুবাইব বিন করিমের মতে, তাঁদের মূল লক্ষ্য ঐতিহ্যকে কেবল সংরক্ষণ করা নয়, বরং একে আধুনিক ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা।

.আইইএলটিএসে ৯-এ ৯ পেয়েছেন রাইসা, পড়ুন তাঁর পরামর্শ .শুরুটা স্রেফ একটা ‘আইডিয়া’ দিয়ে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo