রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: এইচআরডিএসের তীব্র নিন্দা ও ৫ দফা দাবি

Published: October 5, 2026, 5:33 pm

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীর আবাসিক কক্ষে ভাঙচুর, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি (এইচআরডিএস)। সোমবার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সিফাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধ ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্য নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। এর জের ধরে গত ৪ অক্টোবর বিকেলে রাবি ক্যাম্পাসের পরিবহন মার্কেটে হকি স্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে গিয়ে আরিফুল ইসলামের কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয় এবং রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সদস্য জাহিদ ইসলামের মাথায় আঘাত করা হয়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এবং দ্য ডেইলি স্টার-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মৃদুল ইসলামকে গলা চিপে ধরে মারধর করার অভিযোগও উঠেছে।

এইচআরডিএস মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কেন্দ্র। সেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিয়ে সহিংসতা, আবাসিক কক্ষে ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম উপস্থিত থাকা এবং খবর দেওয়ার পরও পুলিশের ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ আসায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করে সংগঠনটি।

ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি ও সহিংসতার পরিবেশ বন্ধ করে আইনের শাসন, মানবিক মর্যাদা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— প্রথমত, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিক জাহিদ ইসলাম ও মৃদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। তৃতীয়ত, আহত সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চতুর্থত, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। এবং পঞ্চমত, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পর্যালোচনা করে দায়িত্ব অবহেলা প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।

১. ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. সাংবাদিক জাহিদ ইসলাম ও মৃদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh