প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৪৪। জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে নতুন করে গণভোট আয়োজনের কথা জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আদালতের রায়ে সংবিধানের বিশেষ কিছু ধারা সংশোধনে গণভোটের বিধান ফিরে আসায় সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা বাতিল হয়নি। ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে।
গতকাল রোববার বিকালে সংবাদপত্রের সম্পাদক ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। বিরোধী দল কমিটিতে এখনো প্রতিনিধি না দিলেও বিল সংসদে উত্থাপিত হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিরোধী দলকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং তারা যখনই যোগ দেবেন, সরকার স্বাগত জানাবে।
জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত সিনিয়র সাংবাদিকদের অনেকেই উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সংবিধান সংশোধন দুর্বল থেকে যাবে বলে অনেক সম্পাদক আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সভায় সম্পাদক নূরুল কবীর ও সন্তোষ শর্মা সংবিধান থেকে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব তোলেন।
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান মনোনয়নে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যথায় অতীতের মতো সংকট তৈরি হতে পারে। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দল না থাকাকে তাদের ‘রাজনৈতিক ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটা তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য সংবিধানে নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি এ বিষয়ে বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে—তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন।
আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বা সংবিধান সংশোধনে কোনো ঝুঁকি নেই। তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপিকে ভবিষ্যতে বিরোধী দলের আসনে বসার বিষয়টি মাথায় রেখে সংবিধান সংশোধনের পরামর্শ দেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই তারা সংবিধান সংশোধনে কাজ করছেন। এছাড়া গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ প্রয়োজনে একতরফা উদারতা দেখিয়ে হলেও বিরোধী দলকে প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ওপর জোর দেন।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ীই সংবিধান সংশোধন হবে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংসদ জনগণের অনুমোদন ছাড়া এগুলো পরিবর্তন করতে না পারে। বিল পাসের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।





