পেশা নয়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই আসামি করা হচ্ছে: প্রসিকিউটর তামিম

Published: October 4, 2026, 7:47 am

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো ব্যক্তিকে তার পেশাগত পরিচয়ের কারণে নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রাথমিক সম্পৃক্ততা ও তথ্যের ভিত্তিতেই আসামি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। রবিবার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও চলমান তদন্ত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম এসব কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এতে কোনো ধরণের বৈষম্য বা নির্বিচার সাজা দেয়া হচ্ছে না।

সাংবাদিকদের আসামি করার বিষয়ে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে যখন সারা দেশে নির্যাতন ও দমনপীড়ন চলছিল, তখন একশ্রেণির সাংবাদিক অপরাধকে প্ররোচিত করেছিলেন এবং তথ্য বিকৃত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। তিনি জানান, আসামিদের কারো পেশা সাংবাদিক হতে পারে, তবে তাদের পেশা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জুলাইয়ের পর এমনকি সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধেও আইন অমান্যের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই আসামি করা হয়েছে, ঢালাওভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রসিকিউশন জানায়, আসামিরা আদালতে আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ আইনি সুযোগ পাবেন।

সাজা ও রায়ের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার বিষয়ে তামিম জানান, ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী দণ্ড দিচ্ছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে ট্রাইব্যুনালে কনভিকশন রেট ৯৯ শতাংশের বেশি এবং মৃত্যুদণ্ডের হার প্রায় ৯০ শতাংশ ছিল, তবে বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল অপরাধভেদে ৩ বছর, ৭ বছর, ১০ বছর, যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছেন। যেসব রায়ে প্রসিকিউশন সন্তুষ্ট হতে পারেনি, যেমন শেখ হাসিনার মামলার একটি অংশে আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও হাসানুল হক ইনুর মামলার রায়ের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে বা প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানানো হয়, দলটির বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর সারা দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কার্যক্রম বিস্তৃত থাকায় এই তদন্ত সম্পন্ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। এছাড়া আমির হোসেন আমু, ডা. দীপু মনি, ফারুক খান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ গ্রেপ্তার নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের বিষয়ে জানানো হয়, ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেপ্তার মূল দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin