ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতার সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে পরবর্তীতে লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে থানা ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত রোববার রাতে মুক্তাগাছা থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আরিফ রব্বানী ওরফে টুটুল। তিনি মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলার ঈশ্বরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানায় ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর রাত ১০টার দিকে থানা ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মুক্তাগাছা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিফ রব্বানী থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে সরাসরি প্রবেশ করতে চান। তখন দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল বকুল মিয়া তাকে জানান যে, ওসি ও অন্য কর্মকর্তারা একটি জরুরি বৈঠকে আছেন এবং তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফ রব্বানী ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে উচ্চবাচ্য শুরু করেন। একপর্যায়ে খবর পেয়ে ওসি ও অন্য কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বের হয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে ওসির সঙ্গেও তার কথাকাটাকাটি হয়।
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় সুমন ও আদিল নামের যুবদলের কয়েকজন কর্মী থানায় উপস্থিত ছিলেন। তারা আরিফ রব্বানীকে বুঝিয়ে থানার বাইরে নিয়ে যান। সেখানে কারও সঙ্গে ধস্তাধস্তি বা গায়ে হাত তোলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে রাত ১০টার কিছু আগে ওসি থানার বাইরে যাওয়ার সময় দেখতে পান, আরিফ রব্বানীর নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে থানার দিকে আসছেন। ওসি তাৎক্ষণিকভাবে ওয়্যারলেসে থানায় খবর দেন। এরপর হামলাকারীরা থানার গেটে এসে ভাঙচুর চালায় এবং পাশের ট্রাফিক বক্সে আঘাত করে জানালার কাচ ভেঙে ফেলে ও কয়েকটি রড বাঁকা করে দেয়। পরে পুলিশ সদস্যরা গেটের দিকে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ওসি কামরুল ইসলাম আরও জানান, এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরিফ রব্বানীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, আরিফ রব্বানী থানায় কোনো অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। সেখানে ওসির কক্ষে ঢোকার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। পরে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কিছু লোক থানায় জড়ো হয়েছিল। তবে থানায় ভাঙচুরের ঘটনা তিনি নিজে দেখেননি এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে বলে জানান।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, থানায় হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই হতে পারে না। যদি সত্যিই এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওসির কক্ষে প্রবেশ করা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ওসিকে বিস্তারিত তথ্য জানাতে বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ওসির কক্ষে ঢোকাকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর জেরে ওই বিএনপি নেতা ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী নিয়ে থানা ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর করে।রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানায় ওসির সাথে বিএনপি নেতার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে বিএনপির ওই নেতা থানার প্রধান ফটক, প





