মরিয়মের হাতের লেখা নয়, চিরকুট নিয়ে সন্দেহ মায়ের

Published: September 22, 2026, 2:45 am

রাজধানীর এমপি হোস্টেলে সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ বেশ কিছু হাতে লেখা চিরকুট জব্দ করেছে। তবে এই চিরকুটগুলোতে থাকা হাতের লেখা মরিয়মের নয় বলে দাবি তুলেছেন তার মা ফিরোজা খানম। সোমবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন।

ফিরোজা খানম জানান, জব্দ করা চিঠির লেখার সঙ্গে তার মেয়ের হাতের লেখার কোনো মিল নেই। তিনি দাবি করেন, মরিয়মের হাতের লেখা উদ্ধারকৃত চিরকুটের লেখার চেয়ে অনেক খারাপ ছিল। চিঠিতে দুই ধরনের ভিন্ন হাতের লেখা পরিলক্ষিত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি এটিকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ এবং তার মেয়েকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মরিয়মের মা জানান, এমপি নজরুল ইসলাম নিজেই তার অসুস্থ স্বামীকে ফোন করে দ্রুত ঢাকায় আসতে বলেছিলেন। নিজের ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি নিজে আসতে না পারলেও তার স্বামীকে পাঠান। সেখানে পৌঁছে মরিয়মের স্বামী তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। মা হিসেবে তিনি তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

গত রবিবার রাজধানীর এমপি হোস্টেলের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় সংসদের প্যাডসহ বিভিন্ন কাগজে লেখা ওই চিরকুটগুলোতে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ ছিল। এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার আদালত গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

পরে তার স্বামী সেখানে গিয়ে দেখেন, মরিয়ম ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘মা হিসেবে আমার শেষ একটাই দাবি— যাদের কারণে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বা করতে বাধ্য হয়েছে, তাদের যেন কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়।’ প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy