সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে তার নিজ গ্রাম শ্যামনগরের গাবুরায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর জানাজা শেষে স্বজনদের পুরোনো কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়। এর আগে রাত ১১টার দিকে মরিয়মের মরদেহ গাবুরার সরদারপাড়ায় এসে পৌঁছায়। মরদেহের সঙ্গে তার বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপু এবং ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদসংলগ্ন স্থানে মরিয়মের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
মরিয়মের দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে আয়োজন চলছিল। তার চাচা মিলন সরদার প্রবাসে থাকায় দাফনের সার্বিক প্রস্তুতি সামলান চাচি মুন্নী খাতুন। তিনি জানান, মরদেহবাহী গাড়িটি পদ্মা সেতু হয়ে খুলনার কয়রা দিয়ে সড়কপথে আসে। এরপর কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে মরদেহ গাবুরার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
মরিয়মের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন সরদার জানান, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে মরিয়ম পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয় ৮২ বছর বয়সী সাবেক গ্রাম পুলিশ গোলাম রহমান বলেন, মরিয়ম ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে তার লেখাপড়া ও এসএসসি পরীক্ষার কথা শোনা যেত। এত অল্প বয়সে এমন মর্মান্তিক ঘটনা কেন ঘটল, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বিস্ময় ও শোক বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।





