কুমিল্লার অপ্রতীম হত্যা: অপরাধীর শাস্তি ও বিচার নিশ্চিত হোক

Published: September 22, 2026, 6:29 am

কুমিল্লার কোটবাড়িতে ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের মৃত্যু ঘিরে গভীর রহস্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে ঘর থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় এই কিশোর। ঘটনার একদিন পর জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকলেও সঙ্গে থাকা আইফোনটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই নির্মম ঘটনা শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা জড়িতদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। যদিও আইফোন ছিনতাইকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, তবে তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই এর সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অনুমানকে সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর আস্থা রাখা জরুরি।

ঘটনাটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো সত্ত্বেও এবং ফোনের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পরেও উদ্ধার কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি নিখোঁজ হওয়ার পর উদ্ধার কার্যক্রম কতটা দ্রুত ও সমন্বিত ছিল, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এখন একটি নিরপেক্ষ, দ্রুত ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা সবচেয়ে জরুরি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, ফোনের অবস্থান, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক প্রমাণের সর্বোচ্চ ব্যবহারের পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন গুজবের ভিত্তিতে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীম ছিল পরিবারের একমাত্র সন্তান। একটি আইফোনের মূল্য কখনোই একটি শিশুর জীবনের সমান হতে পারে না। এই ঘটনার মাধ্যমে যে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন সামনে এসেছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অপ্রতীমের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটিত হোক এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin