এলপি গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা: নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি আদায়

Published: October 3, 2026, 5:46 am

দেশে এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা কোম্পানিগুলো জানালেও বাজারে সংকট ও অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের চাহিদাকে পুঁজি করে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। বর্তমানে ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের জন্য বিইআরসি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও, বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। গ্যাসের পরিমাণভেদে অন্যান্য সিলিন্ডারের দামও একইভাবে বেড়েছে।

এই সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। এলপি গ্যাস আমদানিকারক ও সিলিন্ডারজাতকারী কোম্পানিগুলো ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করছে। অন্যদিকে, ডিলার ও বিক্রেতাদের অভিযোগ, অক্টোবর মাসে দাম বাড়ার আশায় কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি দোষারোপের ফলে গ্রাহকরা হয়রানি ও বাড়তি খরচের কবলে পড়েছেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের শেষ দিক থেকে এলপি গ্যাস নিয়ে বাজারে নৈরাজ্য শুরু হয়। বিইআরসি প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করে দিলেও ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। গত সেপ্টেম্বর থেকে দাম পুনরায় লাগামছাড়া হতে শুরু করে। গত সপ্তাহে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছালেও, এই সপ্তাহে তা ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৩৩ কেজি সিলিন্ডার ৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৫ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এবং ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। গত সোমবার জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে এলপিজি কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত মজুতের নিশ্চয়তা দিয়েছে। মন্ত্রী বুধবার জেলা প্রশাসকদের এলপিজির সংকট ও অতিরিক্ত দামের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারকদের সাথে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাজারের চিত্র ভিন্ন। খিলগাঁও গোড়ানের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন জানান, ১৫ দিন ধরে তিনি কোনো সিলিন্ডার পাননি। বাধ্য হয়ে বাসায় বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। অনেক রেস্তোরাঁ মালিকও বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে খাবারের দামের ওপর। এছাড়া অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতেও সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সিরাজুল মাওলা জানান, দেশের ১ হাজার ১০০ অটোগ্যাস স্টেশনে সরবরাহ প্রায় বন্ধ।

বিইআরসি সাধারণত প্রতি মাসের ২ তারিখে দাম নির্ধারণ করে। তবে ২ অক্টোবর শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ৪ অক্টোবর নতুন দাম ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হককে পাওয়া না গেলেও, লোয়াবের পক্ষ থেকে একটি চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় বা অবৈধ মজুত করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ ঠিক থাকার দাবি করলেও বাজারের চিত্র ভিন্ন। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট ও অতিরিক্ত দামের তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রাহকেরা নিজেদের অসহায়ত্বের কথাও জানালেন। খিলগাঁও গোড়ানের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন দোকানে কিছু এলপিজির সিলিন্ডারও বিক্রি করেন। তিনি বলেন, তাঁর দোকানে মাসে ১০-১৫টি সিলিন্ডার বিক্রি হলেও ১৫ দিন ধরে কোনো সিলিন্ডার পাননি। তাঁর বাসায়ও এলপি গ্যাস ব্যবহার করেন। গ্যাস শেষ হলেও সিলিন্ডার না আসায় বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin