জনগণ ভোট দিলেও তা রক্ষা করতে পারিনি: ডা. শফিকুর রহমান

Published: October 23, 2026, 9:47 am

বিগত জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোট দিলেও নিজেদের দুর্বলতার কারণে তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে তিনি জানান, সাধারণ মানুষ তাদের কাছে এসে ভোট দেওয়ার কথা বললেও তা রক্ষা করতে না পারার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে, যা তাদের নিজেদেরই সাংগঠনিক দুর্বলতা হিসেবে গ্রহণ করতে হয়।

সম্মেলনটি দুটি পৃথক সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রথম সেশনে ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৩ হাজারের বেশি সদস্য বা রুকন ভোট প্রদান করেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তাকে সহায়তা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আ. সবুর ফকির।

সম্মেলনে আমীরে জামায়াত উল্লেখ করেন, তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য আল্লাহর জান্নাত লাভ করা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ৭০ শতাংশ মানুষই খেটে খাওয়া দিনমজুর ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর পথে তাদের অবদান অপরিসীম। তিনি রুকনদের উদ্দেশ্যে সংগঠনের অতীত দায়িত্বশীলদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বর্তমান সময়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে নসিহত পেশ করেন। এছাড়া কুরআনের আয়াতের আলোকে মৃত্যু, পরকালীন জীবন, ধন-সম্পদ ও জ্ঞানের শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি নিজেদের দুর্বলতা মেনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তৎকালীন ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অংশই দুর্বল ছিল, যা ভাই-বোনদের কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে আজকের শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছেছে।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা দেন ডা. শফিকুর রহমান। জাতীয় নির্বাচনের ভুলত্রুটি পর্যালোচনা করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আগামী সিটি নির্বাচনে ভুল শুধরে দিনরাত এক করে কাজ করতে হবে এবং চোর ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনায় জনগণের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজপথে অনিয়মের তামাশা না দেখে সংগত প্রতিবাদ ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দেশকে কুরআনের ভিত্তিতে পরিচালনা এবং সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি বা ক্ষমতার বিষয় নয়, বরং এটি জীবনের নৈতিক মান ধরে রাখার দায়িত্ব। রুহানিয়াত ও আত্মিক মান যত শক্তিশালী হবে, দলও তত মজবুত হবে উল্লেখ করে তিনি আগামী মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে ত্যাগের মাধ্যমে সফলতা অর্জনের আহ্বান জানান। ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রুকন সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মান ও শৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটিয়ে আস্থাভাজন নেতৃত্ব গড়ে তোলা হবে। সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন ও নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin