দেশের মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিনিয়োগ সংস্থাটি সরকারের সম্পদের শতভাগ মালিকানা বজায় রেখে যমুনা সেতুর ভবিষ্যৎ টোল আয়কে আগাম নগদায়ন বা ‘অ্যাসেট মনিটাইজেশন’ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুঁজিবাজারে ১০ হাজার কোটি টাকার ‘যমুনা সেতু সুকুক আল-ইজারা’ বা ইসলামিক বন্ড ছাড়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইসিবির প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের এই কৌশলগত প্রস্তাবনাটি যদি চূড়ান্ত অনুমোদন পায় এবং বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। এটি নতুন নতুন মহাসড়ক ও বন্দর নির্মাণে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি টেকসই দেশি বিকল্প মডেল হিসেবে কাজ করবে এবং অবকাঠামো খাতে দেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ আয়কে কাজে লাগিয়ে মূলধন সংগ্রহের নজির রয়েছে, যা আইসিবির প্রস্তাবনায় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এনএইচএআই) সম্পদ নগদায়ন কর্মসূচির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ভারত টোল অপারেট ট্রান্সফার (টিওটি), ইনভিট এবং সিকিউরিটাইজেশনের মতো পদ্ধতির মাধ্যমে সড়ক প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে আয় হওয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে।
এ ছাড়া মালয়েশিয়ার উত্তর-দক্ষিণ এক্সপ্রেসওয়ে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্লাস এক্সপ্রেসওয়ের অর্থায়ন কাঠামোও এক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। সেখানে সড়ক অবকাঠামোর আয়কে ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তুরস্কের বিভিন্ন সড়ক ও সেতু অবকাঠামোর পরিচালনা এবং টোল আদায়ের অধিকারভিত্তিক অর্থায়ন মডেলগুলোও বেশ পরিচিত। আইসিবির মতে, এসব আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ আয়কে অর্থায়নের উৎস হিসেবে ব্যবহারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।




