ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর অনুপম আদর্শ ও দিকনির্দেশনা

Published: September 24, 2026, 4:50 am

মানবজাতির জন্য ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার অনুপম আদর্শ হলেন মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)। অন্ধকার আরবে তিনি আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য উদার দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতেন। বিচারের ক্ষেত্রে বংশমর্যাদা, প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির মতো বিষয়গুলো তাঁকে কখনোই স্পর্শ করতে পারেনি। উম্মতকে ইনসাফের পথে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা সাত ব্যক্তিকে নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যার মধ্যে সর্বপ্রথম হলেন ন্যায়পরায়ণ শাসক (বোখারি: ৬৬০)।

সমাজের প্রতিটি স্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নবীজি (সা.)-এর দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ঘোষণা করেছেন, ন্যায় বিচারকগণ কিয়ামতের দিন আল্লাহর ডানপার্শ্বে নূরের মিম্বরে উপবিষ্ট থাকবেন। তাঁরা হলেন সেইসব ব্যক্তি, যারা শাসনকার্য এবং নিজেদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনে সুবিচার করেন (মুসলিম: ১৮২৭)। ন্যায়পরায়ণতার পরিধি কেবল রাষ্ট্র বা বিচারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পরিবার, সমাজ এবং ব্যক্তিগত আচরণের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্তৃত।

নবীজি (সা.)-এর জীবনে ইনসাফের অসংখ্য শিক্ষা রয়েছে। মাখজুম গোত্রের এক মহিলার চুরির ঘটনায় উসামা (রা.) সুপারিশ করতে এলে নবীজি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, পূর্বের জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে কারণ তারা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধ উপেক্ষা করত এবং অসহায় গরিবদের শাস্তি দিত। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, যদি তাঁর কন্যা ফাতিমাও চুরি করতেন, তবে তিনি তার হাত কেটে দিতেন (বোখারি: ৬৭৮৬)। এরপর সেই মহিলা খাঁটি তওবা করেছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের প্রতিও নবীজি (সা.) ইনসাফের সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখতেন। তিনি স্ত্রীদের মাঝে সমতা বিধানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং বলতেন, যা তাঁর সাধ্যের বাইরে—যেমন হৃদয়ের ভালোবাসা—সে জন্য যেন আল্লাহ তাঁকে অভিযুক্ত না করেন (আবু দাউদ: ২১৩৪)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি সতর্ক করেছেন যে, যার দুজন স্ত্রী আছে কিন্তু সে একজনের প্রতি অধিক মনোযোগী, কিয়ামতের দিন সে এক পার্শ্ব ভাঙা অবস্থায় উপস্থিত হবে (তিরমিজি: ১১৪১)। আল্লাহ তায়ালাও পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন যে, স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে না পারলেও যেন কেউ কোনো একজনের দিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকে না পড়ে (সুরা নিসা: ১২৯)। নবীজি (সা.)-এর জীবন আমাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও আগ্রহ বিসর্জন দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য শিক্ষা দেয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh