মানব পাচার আধুনিক দাসত্বের নামান্তর: ইসলামে এটি সম্পূর্ণ হারাম

Published: September 21, 2026, 4:00 am

মানব পাচারকে বর্তমান বিশ্বের আধুনিক দাসত্বের রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি জরিপ অনুযায়ী, গত আট বছরে প্রায় সাড়ে ২০ লাখ মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছে, যার মধ্যে ১৯ হাজারের বেশি মানুষ নৌযান ডুবে প্রাণ হারিয়েছে। এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশিরাও। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্যমতে, গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ পাচার হয়ে ইউরোপে পৌঁছেছে।

পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে নারী ও শিশুরা পতিতাবৃত্তি, গৃহস্থালির কাজ এবং নানা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম ও ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে, পুরুষদের মাদক ও অস্ত্র পাচার, চোরাচালান এবং চুরির মতো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সৃষ্টির সেরা মানুষকে পণ্য হিসেবে বিক্রি করা এবং উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে দাসে পরিণত করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কিছু মানুষের অর্থলোভের কারণে হাজারো পরিবার চিরস্থায়ী কান্নায় নিমজ্জিত হচ্ছে।

ইসলামে এই জঘন্য কাজের কোনো স্থান নেই। যারা নিজেদের বিত্তশালী করার নেশায় মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে, তাদের পরকালীন পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। হাশরের ময়দানে স্বয়ং আল্লাহ তাদের প্রতিপক্ষ হবেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহতায়ালা বলেন, আমি কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির মানুষের প্রতিপক্ষ। আর আমি যার প্রতিপক্ষ তার পরাজয় অনিবার্য। তাদের এক শ্রেণি হলো, যে ব্যক্তি স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করবে।' (বোখারি: ২২২৭)।

সম্পদ অর্জনের মোহে যারা অন্যকে জিম্মি করে, আল্লাহ তাদের দুনিয়াকে অশান্তিময় করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, 'যার উদ্দেশ্য হবে শুধু দুনিয়া অর্জন, আল্লাহ তার কাজকে এলোমেলো বিক্ষিপ্ত করে দেবেন। পেরেশানি সৃষ্টি করে দেবেন। সম্পদের পাহাড় থাকলেও তার দুই চোখের সামনে দারিদ্র্য এনে দেবেন।' (ইবনে মাজাহ: ৪১০৫)।

মানব পাচারের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হলেও এর হার কমছে না। এর অন্যতম কারণ হিসেবে মামলার বিচারের দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মানব পাচারের ঘটনায় ৬ হাজার ১৩৪টি মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৪৬০ জন। অথচ এর মধ্যে মাত্র ২৩৩টি মামলায় ৪০৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়েছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক আসামি খালাস পেয়ে যাচ্ছে। যারা পাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনার দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের অবহেলার জন্য হাশরের ময়দানে জবাবদিহি করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'জেনে রাখো, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।' (বোখারি: ৭১৩৮)।

মানব পাচারকে দাসত্বের আধুনিক রূপ বলা হয়। একটি জরিপে এসেছে, গত আট বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছে সাড়ে ২০ লাখ পাচার হওয়া মানুষ। এ সময় নৌযান ডুবে মারা গেছে ১৯ হাজারের বেশি মানুষ। (দৈনিক ইত্তেফাক : ১ এপ্রিল, ২০২২)। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া এবং সাগরে ডুবে যাওয়া মানুষের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যাও কম নয়। ইউরোপীয় কমিশন বলছে, গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে শুধু ইউরোপেই পাচার হয়েছে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। (বিবিসি বাংলা : ৩০ জুলাই, ২০২২)।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh