কেবল শক্তিতে বৈশ্বিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়: গুতেরেস

Published: September 23, 2026, 4:18 am

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের সংকটগুলো এখন আর সাধারণ কোনো ফাটল নয়, বরং তা অতল খাদে পরিণত হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজের বিদায়ী ভাষণে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরাশক্তিগুলো এখন পর্যন্ত প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে যে সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত শক্তি ব্যবহার করে এককভাবে বৈশ্বিক সংকটের সমাধান করা সম্ভব।

গুতেরেস বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, পরাশক্তিগুলোর এটি অনুধাবন করা জরুরি যে তাদের ক্ষমতা অসীম নয়। কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা দিয়ে স্থিতিশীলতা আনা কিংবা প্রযুক্তিগত শক্তির ওপর ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং পারস্পরিক আস্থার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মহাসচিব জলবায়ু সংকটকে এখন আর কোনো দূরবর্তী সতর্কবার্তা হিসেবে নয়, বরং প্রতিদিনের এক নির্মম বাস্তবতা হিসেবে বর্ণনা করেন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অনিয়ন্ত্রিত ও অবিশ্বাস্য গতির কারণে নির্মাতারাও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আক্রমণের পর গাজায় যে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে, তা মহাসচিব হিসেবে তার দায়িত্ব পালনকালে আগে কখনো দেখেননি। তিনি বর্তমান বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ক্ষমতার কাঠামো যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, শাসনব্যবস্থা তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না। বর্তমানে রাষ্ট্রগুলোর হাত থেকে ক্ষমতা গুটিকয়েক বেসরকারি কর্পোরেশন ও ধনকুবের ব্যক্তির হাতে চলে গেছে, যারা রাজনীতি থেকে শুরু করে তথ্যের প্রবাহ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে।

গুতেরেস বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বিশ্বকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে এক সুষম বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে আন্তর্জাতিক সনদ রক্ষা এবং সব বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া ২১ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে তিনি একটি অন্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে সকল চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা সত্ত্বেও জাতিসংঘই একমাত্র জায়গা যেখানে শক্তিশালী পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভাষণের শেষভাগে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রধান কার্যালয়ে পুরুষের পাশাপাশি সমসংখ্যক নারী নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh