দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন ও জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়। সভায় প্রধান মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদিত কার্যবিবরণী অনুযায়ী, সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনায় মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় সচিবালয়ের প্রতিটি ভবনে ডিজিটাল অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বসানো হবে, যার বাস্তবায়ন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়া সচিবালয় প্রাঙ্গণে যানবাহন চলাচল ও পার্কিং পর্যবেক্ষণে পুলিশ সদস্যরা কঠোর নজরদারি করবেন এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যানবাহনের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন ‘বিশেষ পার্কিং স্টিকার’ প্রবর্তন করা হচ্ছে, যা ছাড়া কোনো গাড়ি ভেতরে পার্ক করা যাবে না।
দর্শনার্থী ও বহিরাগতদের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে দুপুর ১২টার আগে কোনো দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য পাস ইস্যুর সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীগণ সর্বোচ্চ ১০টি, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সিনিয়র সচিবগণ ৫টি, অতিরিক্ত সচিবগণ ৩টি এবং যুগ্ম সচিবগণ সর্বোচ্চ ২টি পাস ইস্যু করতে পারবেন। এছাড়া কোনো কর্মকর্তা বদলি হলে তার আগের স্থায়ী পাস ৭ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হবে, যেখানে তাদের পরিচয় ও সাক্ষাতের উদ্দেশ্য সংরক্ষিত থাকবে। সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে প্রবেশের সময় শুধুমাত্র তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) ও ড্রাইভারকে সাথে নিতে পারবেন, যার পরিচয় পুলিশ যাচাই করবে। পাশাপাশি সচিবালয়ে রাতের বেলা অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া সচিবালয়ে আগত দর্শনার্থীদের গতিবিধিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।
১. যানবাহন ট্র্যাকিং ও পর্যবেক্ষণ: সচিবালয় প্রাঙ্গণে যানবাহন প্রবেশ, অবস্থান ও পার্কিং-সংক্রান্ত নিয়মাবলী সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না—তা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করবেন। কোনো ব্যত্যয় দেখা গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪. ডিজিটাল অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম: সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনসহ প্রতিটি ভবনে অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের প্রবেশাধিকার যাচাই করতে পৃথক ডিজিটাল অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম স্থাপন করা হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দ্রুত এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেবে।





