সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরের সর্বোচ্চ

Published: October 4, 2026, 7:31 am

সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন অনিশ্চয়তার কারণে সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে চিনি, ভোজ্যতেল এবং কিছু খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শস্যের দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গমের দামকে ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ সংকটের কারণে ভুট্টার দামও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দরও ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম মাসভিত্তিক হিসেবে কিছুটা কমেছে, কিন্তু সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির এই ধারা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উস্কে দিচ্ছে।

সংস্থাটি ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৯৮ কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা শস্য উৎপাদন ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকেও পড়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অঞ্চলে জ্বালানির দাম এক বছরে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাজ্যেও জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির জ্বালানি গবেষণা সংস্থার আশঙ্কা, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে ব্রিটেনে জ্বালানি খরচ ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা গড় ব্রিটিশ পরিবারের বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় ১ হাজার ৭০০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার পাউন্ডে নিয়ে যেতে পারে।

এদিকে, গ্রিসে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও জ্বালানি, আবাসন ও পরিবহন খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ পরিবারগুলো। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার চার বছরমেয়াদী ভর্তুকি ও করছাড়ের প্যাকেজ ঘোষণা করলেও ভোক্তারা এটিকে যথেষ্ট মনে করছেন না। যুক্তরাষ্ট্রেও সেপ্টেম্বরে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। আগস্টে ১ লাখ ৩৩ হাজার কর্মসংস্থান হলেও সেপ্টেম্বরে তা নেমে এসেছে ২৯ হাজারে। দেশটিতে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh