বিক্রি কমেছে ৩০%, খাবারের দাম সমন্বয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ চান রেস্তোরাঁমালিকেরা

Published: October 3, 2026, 10:03 am

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় বাড়ার পরও খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। উল্টো দাম সমন্বয় করতে গেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানাভাবে হয়রানি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এই পরিস্থিতিতে খাবারের দাম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বন্ধ, সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে কর প্রত্যাহার এবং একক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার পল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি জানান, নিত্যপণ্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যেই রেস্তোরাঁগুলোয় বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম, মসলা ও শাকসবজিসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, এলপিজি, পরিবহন খরচ, বাড়িভাড়া ও শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতা হারানোর তীব্র আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে অনেক রেস্তোরাঁ এখন পরিচালন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব ইমরান হাসান অভিযোগ করেন, কাঁচামালের দাম ও পরিচালন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও ব্যবসায়ীরা সেই অনুপাতে খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না। দাম সমন্বয় করতে গেলে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রেস্তোরাঁর খাবারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কাঁচামালের ক্রয়মূল্য, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য ইউটিলিটি খরচ বিবেচনা করা উচিত। প্রকৃত ব্যয় যাচাই না করে ঢালাওভাবে জরিমানা বা হয়রানি করা বন্ধ করতে হবে।

বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ চালু ও পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২ ধরনের লাইসেন্স বা অনুমোদন নিতে হয়। এতে ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ দুটিই বাড়ছে। এই ভোগান্তি দূর করতে রেস্তোরাঁ খাতের জন্য একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা এক দরজায় সব সেবা চালুর দাবি জানিয়েছে সমিতি। তাদের মতে, একক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত লাইসেন্স ও তদারকি ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং রেস্তোরাঁর কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়াও সহজ হবে।

কর কাঠামোর সংস্কার দাবি করে সংগঠনটি রেস্তোরাঁ খাতে আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ২ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে ভ্যাট আদায়ের নামে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ এবং ফুটপাতের স্ট্রিট ফুড ও অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়হীন অভিযান ও অহেতুক জরিমানার তীব্র সমালোচনা করে নেতারা বলেন, যেকোনো অভিযানের সময় রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির প্রতিনিধিকে সাথে রাখতে হবে। হয়রানি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

দেশে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা উল্লেখ করে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চেয়েছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, লোডশেডিং কমানো, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ এবং রেস্তোরাঁ কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo