কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকার একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ

Published: October 18, 2026, 4:47 am

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে পাটুয়ারটেক সৈকতের কাঠের তৈরি ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে ঢাকার একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাঁদের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্বজনেরা। নিখোঁজ চারজন হলেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

গত শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দুই তলা কাঠের তৈরি ওই রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে আটজনের পরিচয় অনুমান করা গেলেও তাঁদের মধ্যে নিখোঁজ এই চারজনের নাম নেই। এদিকে উদ্ধারকৃত কারও পরিচয়ই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির। তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া কারও চূড়ান্ত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পরিবারগুলোর দাবির বিষয়টি যাচাই করতে এবং পরিচয় নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগবে।

নিখোঁজ আফসানার বড় বোন সাতক্ষীরার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক ফারজানা মতিন জানান, গত শুক্রবার সকালে পরিবারটি বেড়াতে কক্সবাজার পৌঁছায়। সে সময় আফসানা তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে রিসোর্টের এক বারান্দা থেকে সমুদ্র এবং অন্য বারান্দা থেকে পাহাড় দেখার কথা জানিয়েছিলেন। সেখানে বুফে প্রাতরাশের ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু শনিবার সকাল সাতটা থেকেই নাহিদ ও আফসানার মোবাইল নম্বর বন্ধ পেতে থাকেন স্বজনেরা। অফিসিয়াল জরুরি কাজ থাকলেও নাহিদ কখনো ফোন বন্ধ রাখেন না। পরে দুপুরে ফেসবুকে রিসোর্টে আগুন লাগার সংবাদের সঙ্গে বোন ও বোনজামাইয়ের দেওয়া তথ্যের মিল পেয়ে উদ্বেগ বাড়ে ফারজানার।

অগ্নিদুর্ঘটনাতথ্য জানার পর স্বজনেরা ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালে যোগাযোগ করেন এবং আহত-নিহতদের তালিকায় তাঁদের নাম খোঁজেন। পরে ইন্টারনেটে সংগৃহীত রিসোর্টের নথি থেকে নাহিদুর রহমানের নাম ও মুঠোফোন নম্বর উদ্ধার করেন তাঁদের বন্ধুরা। এতে রিসোর্টটিতে তাঁদের অবস্থানের কথা নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাঁদের চূড়ান্ত পরিণতি জানা সম্ভব হয়নি। খবর পাওয়ার পরপরই নাহিদের ভাই ও বন্ধুবান্ধবসহ পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

দুই ভাগনি রুজাইনা ও সুনাইনার কথা স্মরণ করে কান্নাভেজা কণ্ঠে ফারজানা মতিন বলেন, ওই দুই শিশুকে কেন্দ্র করেই তাঁদের দুটি পরিবারের সমস্ত আনন্দ আবর্তিত হতো। তারা নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলত। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "ওরা খুব সুখী ছিল। একদম ফুলের মতো। ওদের দিকে তাকালে তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছা করবে শুধু। ওরা সকাল-সন্ধ্যা ভিডিও কলে কথা বলত। ওই দুই মেয়েকে নিয়ে আমাদের কত আনন্দ! আমরা তো ওদের নিয়েই বাঁচতাম। ওরা কোথায় হারিয়ে গেল। ওদের কি আর ফিরে পাব না?"

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo