খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, শুরু ১ নভেম্বর

Published: October 21, 2026, 7:17 am

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশের নির্দিষ্ট শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও পণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ আগামী ১ নভেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ ও নতুন প্রবিধানমালা অনুযায়ী, ১৬ ধরনের খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আওতায় রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমাণ দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সার্ভিস, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, পাইকারি মুদি দোকান, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজু বিক্রেতাদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদন, পুষ্টিসমৃদ্ধ (Fortified) খাদ্য, বিশেষ খাদ্য, প্রোবায়োটিক, জৈব-খাদ্য, অভিনব খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্য (Food Additives) বা অন্যান্য additives-এর উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনসংশ্লিষ্ট ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রবিধান অনুযায়ী, বিশেষায়িত বা সুপার ফুড পণ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রি-বায়োটিক এবং নিউট্রাসিউটিক্যালস জাতীয় পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত। নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি-সম্পন্ন খাদ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স ও নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তিন বছর, যা পরবর্তীতে নবায়ন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ ১৬ ক্যাটাগরির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হয়েছে। তবে ১০০ বর্গমিটার বা তার নিম্নে প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন লাইসেন্স নিতে ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। আবেদনকারীদের নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬-এর তফসিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে। বর্তমানে জেলা কার্যালয়ে আবেদন করা গেলেও কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদনের ব্যবস্থা করছে। এছাড়াও প্রতিটি পণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ভোক্তারা পণ্যের মান ও প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন যাচাই করতে পারেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন দাখিল করতে হবে।কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নিবন্ধন বা লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy