জ্বালানি নিরাপত্তা ও এলএনজি সরবরাহে সৌদি-কাতারের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

Published: October 12, 2026, 4:24 am

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানো ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখা, নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি গঠন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতেই এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে। রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ-১৭) সাইডলাইনে দেশ দুটির শীর্ষ জ্বালানি কর্মকর্তা ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সৌদি আরবভিত্তিক প্রধান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'এসিডব্লিউএ পাওয়ার' বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে মূলধন বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ, নির্ধারিত প্রকল্প কিংবা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিশদ তথ্য দেওয়া হয়নি।

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানির সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। জবাবে সৌদি সহকারী মন্ত্রী বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদার করতে রিয়াদ আন্তরিক। বিশেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের নির্ধারিত জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্বিপক্ষীয় প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।

একই বৈঠকে সম্প্রতি সৌদিতে ঘটে যাওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়াদের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শোকবার্তার বিষয়টি অবহিত করা হয়। পাশাপাশি ওই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সাহায্য কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

অন্যদিকে কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস সংকট ও এলএনজি আমদানির চিত্র নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে কাতার এনার্জির আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে এলএনজি পাঠানো এবং আমদানির উৎস ও পরিবহন রুটে বৈচিত্র্য আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্য সামনে রেখে উভয় দেশের কারিগরি ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলগুলোর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত পোষণ করে।

দিনের অন্য বৈঠকে এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহানের সঙ্গে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে সৌর ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। এসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানি, কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবি এবং এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh