বইয়ের মান যাচাইয়ে মধ্যরাতে ৬ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী

Published: September 29, 2026, 2:32 am

আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা (প্রেস) হঠাৎ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি এই আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী ছাপাখানায় চলমান কাজের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন গাইড বইয়ের সঙ্গে মূল পাঠ্যবইয়ের নমুনা মিলিয়ে বইয়ের গুণগত মান সরাসরি যাচাই করেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি, ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের নবম শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানো হবে। এছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বইও মুদ্রণ করা হচ্ছে।

এনসিটিবি সদস্য (টেক্সট) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানিয়েছেন, বই ছাপানোর কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বইগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যাবে এবং ১ জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ নামে নতুন বিষয়ের বই যুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন বইগুলোসহ অন্যান্য সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যবই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh