নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ এবং তার অশ্লীল ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কিশোরী গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব দুবরাজপুর গ্রামের নাঈম মিয়া (২০), ঝুটন মিয়া (২১), রুহুল আমিন (২৬) এবং আজিজুল ইসলাম (১৯)।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। কিশোরী বিয়ের অনুষ্ঠানে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে নাঈম ও তার সহযোগীরা তাকে পূর্ব দুবরাজপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় নিয়ে যায়। সেখানে আজিজুল কিশোরীর মুখ ও হাত-পা চেপে ধরে রাখে এবং নাঈম যৌন নির্যাতন চালায়। এরপর ঝুটন কিশোরীর কাপড় ছিঁড়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং রুহুল আমিন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে অশ্লীল ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় অভিযুক্তরা কিশোরীর ১২ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যান।
কিশোরীর পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আইনি প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী নিজেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুর্গাপুর চৌকিতে অভিযুক্ত তিনজন—নাঈম, ঝুটন ও রুহুল আমিন—আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের বিচারক নুরুল আলম ভূইয়া তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মানেশ সাহা ও অ্যাডভোকেট পুলক বিশ্বাস।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, পুলিশ ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনজন আসামি কারাগারে থাকলেও আজিজুল ইসলাম এখনো পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





