বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আগামীকাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে। এই দিন ‘মহা ষষ্ঠী’ তিথিতে দেবীর আনুষ্ঠানিক জাগরণ বা ‘বোধন’ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার ‘মহা সপ্তমী’ তিথি থাকায় পরদিন থেকেই পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। মহাসপ্তমীতে নয়টি উদ্ভিদ স্নান করিয়ে ‘নবপত্রিকা’র আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে।
সোমবার উদযাপিত হবে ‘মহাঅষ্টমী’, যার বিশেষ আকর্ষণ হলো অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত ‘সন্ধিপূজা’। পরদিন ‘মহানবমী’তে পূজার শেষ ধাপের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং দেবীকে ‘ভোগ’ নিবেদন করা হবে। উৎসবের শেষ দিন বুধবার ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শেষ হবে। ভক্তরা শোভাযাত্রা সহকারে নির্ধারিত নদী, পুকুর বা জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন। শাস্ত্রীয় মতে, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে গমন করবেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। এর ফলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
দেশজুড়ে পূজা মন্ডপগুলোতে আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল নির্মাণ ও প্রতিমা স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবার পূজামন্ডপের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১,৫০০টি বেড়ে ৩৩,৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মন্ডপে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনসহ বিভিন্ন মন্দিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূজামন্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। আয়োজকদের জেনারেটর প্রস্তুত রাখা এবং বিকল্প হিসেবে রিচার্জেবল লাইট বা বাতি রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে।
শাস্ত্রকারদের মতে, দেবী দুর্গা ভক্তকে ভয়, দুঃখ ও শোক থেকে রক্ষা করেন। ত্রেতা যুগে ভগবান রামচন্দ্র রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের সময় শক্তি বৃদ্ধির আশায় শরৎকালে দেবী আদ্যাশক্তির পূজা করেছিলেন। সেই থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর শরৎকালে দুর্গোৎসব পালন করে আসছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
গত ১০ অক্টোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপন করেছেন, যা দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা বয়ে আনে।
গত বছরের তুলনায় এবার পূজামন্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮৫১ তে।





