নোবেল শান্তি পুরস্কার নিজেরই পাওয়া উচিত বলে মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Published: October 8, 2026, 3:38 am

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিজের শান্তিতে নোবেল পাওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাতময় পরিস্থিতি ও নিজের বিতর্কিত সব সিদ্ধান্তের মধ্যেও তিনি এই সম্মানজনক পুরস্কারটি শেষ পর্যন্ত পাবেন কি না, তা নিয়ে নিজেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আগামী শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এর আগে গত বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটি কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তা তিনি জানেন না। কমিটির যথেষ্ট সুনাম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো তার মতো মানুষকে তারা এই পুরস্কার নাও দিতে পারে। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি পাওয়ার দাবি করে আসছেন। ওভাল অফিসে তিনি মন্তব্য করেন, "এখনই সেই সময় এসেছে।"

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এর আগে পরোক্ষভাবে এই পুরস্কার পেয়ে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলেন। মূলত, ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন সমর্থন নিয়ে ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার সময় মাচাদো ট্রাম্পের হাতে ওই পদক তুলে দেন। ট্রাম্প সম্ভবত এটাকেই পরোক্ষভাবে পুরস্কার পাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তিনি আটটি সংঘাত নিরসনে হস্তক্ষেপ করেছেন, যার কারণে তার এই পুরস্কার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেলের জন্য মনোনীত করেছেন বলে তিনি জানালেও এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এখনও চলমান এবং ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি তা সফল করতে পারেননি। এছাড়া টরন্টো হ্রদকে নিজের মতো করে ‘লেক অব আমেরিকা’ নামকরণ, কানাডা দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর পরিকল্পনা ঘোষণা এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার মতো বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। গাজা দখল করে সেখানে ‘রিভেরা’ বানানোর পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার রাজধানী থেকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া, কিউবার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর মতো পদক্ষেপও নিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি ভেনেজুয়েলার তেলও কার্যত তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করেছেন, কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো এলাকায় পুনরায় লড়াই শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছে। এছাড়া ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাত মাসব্যাপী সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন রাজনীতিতেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের নাম রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin