শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা জেলার ১ হাজার ১৮টি পূজামণ্ডপের অনুকূলে মোট ৬৯ লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের ইতিহাসে এবারই প্রথম এই ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলো। কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির হাতে এ অর্থ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে অনুদান বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলা পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রদত্ত অর্থের মোট বরাদ্দের মধ্যে ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলার ৮৬৯টি পূজামণ্ডপে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ঢাকা মহানগর এলাকার ১৪৯টি মণ্ডপে ২৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের মধ্যে সাভারে ২৩৮টি, ধামরাইয়ে ২৩৫টি, নবাবগঞ্জে ২০১টি, কেরানীগঞ্জে ১৫৩টি এবং দোহারে ৪২টি পূজামণ্ডপ এ আর্থিক সহায়তার আওতায় এসেছে। প্রান্তিক অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সংলগ্ন এলাকাগুলোর মণ্ডপগুলোতেও এই অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রম গত ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয়। ওই দিন নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
পরদিন ১৪ অক্টোবর ধামরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ তমিজ উদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের হাতে চেক তুলে দেন। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
একই দিনে কেরানীগঞ্জের দুটি ভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে অনুদান বিতরণ করা হয়। কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে ঢাকা-২ আসনের মণ্ডপগুলোর অনুদান হস্তান্তর কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ মো. আমান উল্লাহ আমান। অপরদিকে ঢাকা-৩ আসনের কেরানীগঞ্জ অংশের মণ্ডপগুলোর জন্য তেঘরিয়া ইউনিয়নের স্বর্গপুরী মন্দিরে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউএনও উমর ফারুকের সভাপতিত্বে সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী। দুটি কর্মসূচীতেই জেলা পরিষদের প্রশাসক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ ১৫ অক্টোবর সাভার উপজেলা পরিষদে সাভারের মণ্ডপগুলোর মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
ঢাকা মহানগরের ১৪৯টি পূজামণ্ডপের জন্য বরাদ্দকৃত ২৬ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য, তাঁদের প্রতিনিধি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রশীদ, ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্যের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আবদুর রহমান সানি, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন নিজ নিজ এলাকায় সহায়তার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, বিবি হাজ্জাজ, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকার মণ্ডপগুলোর আবেদনের ভিত্তিতেও অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ জানান, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওদের মাধ্যমে এবং মহানগরে স্থানীয় সংসদ সদস্য, তাঁদের প্রতিনিধি, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সুপারিশ নিয়ে সরাসরি আয়োজকদের হাতে টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের অপতৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, এবার মহানগরের যে মণ্ডপগুলো ছাড় পেয়েছে, আগামীতে সেগুলোকে এই অনুদানের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান উল্লেখ করে দুর্গাপূজাকে একটি সর্বজনীন উৎসবে রূপ দিতে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সব ধর্মের নিরাপত্তা, সমান অধিকার এবং স্বাধীনভাবে ধর্মপালন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা হিসেবে এই অনুদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়। জেলা পরিষদ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শান্তিপূর্ণ ও শুভ শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভকামনা জানিয়েছে।





