লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল মেয়ে, ফসলি জমিতে মিলল কিশোরীর মরদেহ

Published: October 8, 2026, 5:47 pm

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল-সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে খোঁজখবর শুরু করেন। এরপর সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে তাঁরা মেয়েটির মরদেহ দেখতে পান। স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বণিক জানান, মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। উদ্ধারের সময় কিশোরীর গলায় গামছা প্যাঁচানো এবং মুখে মাটি লেগে ছিল।

নিহত ওই কিশোরীর গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায় হলেও তার পরিবার কুমিল্লা শহরে বসবাস করত। সে শহরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে সে আর বিদ্যালয়ে আসত না। মেয়েটির বাবা কুমিল্লায় চাকরি করেন। তিনি জানান, ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে মেয়েটি বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় তাকে ফোন করলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানিয়েছিল।

ঘটনার দিন বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে মেয়েটি তার বাবাকে একটি খুদে বার্তা এবং ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। মেয়েটির বাবা বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।’

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, উদ্ধারের সময় তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহের পরিচয় পাওয়া যায়নি, পরে পরিবারের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, মেয়েটি পদুয়ার বাজারে নামার পর কীভাবে লালমাইয়ের ওই স্থানে পৌঁছাল, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং উদ্ধারকৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি নিয়েও তদন্ত চলছে। অটোরিকশাটির ভেতরে পাওয়া পোশাক ও ভ্যানিটি ব্যাগ ওই কিশোরীর কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর কিশোরীটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লা এসে পরে কক্সবাজারে গিয়েছিল। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে। মেয়েটির বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে মরদেহ নিয়ে পরিবার যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। মেয়েটির বাবা জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo