টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাত্র ১০ মিনিটের ঝোড়ো বাতাসে শত শত কৃষকের স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। উপজেলার শোলাকুড়ি, অরণখোলা, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রামে এই দুর্যোগ আঘাত হানে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ঝড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ৭০০ কৃষকের কলা ও পেঁপের বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, জয়না গাছা, হরিণধরা ও গাবগাইছাসহ বিভিন্ন গ্রামে অনেক ফলন্ত কলাগাছ ভেঙে বা উপড়ে পড়েছে। পেঁপে বাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কৃষক নূর মুহাম্মদ জানান, তার দুই বিঘা জমির পেঁপে ও পাঁচ বিঘা জমির লাউ নষ্ট হয়ে গেছে। শোলাকুড়ির ইউপি সদস্য খোকন মিয়া বলেন, কৃষকরা এখন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবিএম খায়রুল ইসলাম জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন। সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে তা বিতরণ করা হবে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানিয়েছেন। এদিকে, উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাকির হোসেন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে থাকায় এলাকায় আসতে পারেননি, তবে তার নির্দেশে তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে টানা দেড় ঘণ্টার বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে আগাম জাতের পাকা ও কাঁচা ধান নুয়ে পড়েছে। কিছু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান, বাতাসের প্রভাবে কিছু জমির ধান হেলে পড়েছে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পেকে যাওয়া ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুললে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব এবং হেলে পড়া ধানের গোছাগুলো আলতোভাবে বেঁধে দিলে কিছুটা সুফল পাওয়া যেতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মোট কত হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা জানা যায়নি।





