নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র সম্ভব নয়: সিইসি নাসির উদ্দিন

Published: October 5, 2026, 9:29 am

দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত, গ্রহণযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই করে তোলার জন্য নারী জনগোষ্ঠীর কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি হলো দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারীর সক্রিয় উপস্থিতি। সোমবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যেকোনো উদ্যোগ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কেবল প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করলেই নারীদের জন্য সমান সুযোগ বা পরিবেশ তৈরি হবে না। এজন্য সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং পর্যাপ্ত সচেতনতা প্রয়োজন। বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সহ বিভিন্ন আইনে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিধান থাকলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে অন্যান্য অংশীজনের প্রতিশ্রুতির অভাবকে দায়ী করেন তিনি।

নির্বাচনের পাশাপাশি সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে সিইসি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধকে বিবেচনায় রেখেই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। সামাজিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে কোনো উদ্যোগ নিলে তা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনবে না।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, এই নির্বাচনগুলো সাধারণত তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে থাকে, কারণ প্রার্থীরা স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভোটারদের কেন্দ্রে আনার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি দেখা যেতে পারে।

তবে স্থানীয় নির্বাচনে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, শুধু ভোটার হিসেবে নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তবেই গণতন্ত্র আরও গ্রহণযোগ্য ও টেকসই হয়ে উঠবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh