খননকৃত খালগুলোকে আয়বর্ধক খাতে রূপান্তরের তাগিদ ত্রাণমন্ত্রীর

Published: September 19, 2026, 9:03 am

সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে খনন ও পুনঃখনন করা খালগুলোকে শুধু জলাবদ্ধতা নিরসন বা পানি নিষ্কাশনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি সরকারি অর্থায়নে করা এসব খালের পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে আয়ের সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শনিবার রাজধানীর কেআইবি সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেবল প্রচলিত ত্রাণ বা সহায়তানির্ভর না রেখে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার দিকে ধাবিত করতে হবে। এর মাধ্যমে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। কোনো এলাকায় খাল খননের পর সেটিকে কেবল অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে না দেখে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় তা বিবেচনা করা উচিত। খালের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট আয়বর্ধক কর্মসূচি গ্রহণ করার পরামর্শ দেন তিনি।

কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করার তাগিদ দেন আসাদুল হাবিব দুলু। এ প্রসঙ্গে নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তার মাশরুম চাষের উদ্যোগ পরিদর্শন করে তিনি এর ব্যাপক সম্ভাবনা দেখেছেন। মাশরুম চাষে অপেক্ষাকৃত কম পুঁজি লাগে এবং শীতকালেও এটি চাষ করা সম্ভব। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এই ধরনের নতুন ধারণার কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য চলতি বছর প্রাথমিকভাবে ২৫টি উপজেলায় একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সেখানে সফল হলে পরবর্তীতে এটি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন কর্মসূচির ক্ষেত্রে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং মানুষের আয় কতটা বাড়ছে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের আবাসন ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে তাদের চেনা পরিবেশ ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কোনো দূরবর্তী বা আশ্রমধর্মী স্থানে পুনর্বাসনের চেয়ে নিজ এলাকাতেই তাদের স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে শুধু একটি ঘর বা আশ্রয় দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক সংযোগের বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের এলাকায় থেকেই ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।

বর্তমানে প্রচলিত খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির পরিমাণ নিয়ে পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, একজন দরিদ্র মানুষকে মাত্র ১০ কেজি চাল দেওয়া বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ একজন শ্রমজীবী মানুষ একদিন কাজ করেই এই পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারেন। তাই শুধু সামান্য খাদ্যসহায়তা না দিয়ে তাদের আয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। এ কারণে খাদ্যসহায়তার পরিমাণ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে, যার জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে এটি কার্যকর করা হবে।

সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে সরকারি সব অনুদান সরাসরি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেন মন্ত্রী। এতে অর্থের অপচয় ও অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে এসব কর্মসূচির নাম ও কাঠামো পরিবর্তন করা যেতে পারে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যার প্রধান থাকবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সদস্য সচিব থাকবেন মহাপরিচালক। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও পিআইওদের প্রতিনিধিও রাখা হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রকৃত সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং সচিব সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে মাঠপর্যায়ের নানা অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin