কুমিল্লার শশীদল সীমান্ত এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। শুক্রবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে দাপ্তরিক যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে এবং আটক দুই পুলিশ সদস্য বর্তমানে অক্ষত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব পালনকালে সীমান্তের জটিল ভৌগোলিক পরিবেশ ও জঙ্গলময় পাহাড়ি এলাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা মোকাবিলায় বিজিবি পুরোপুরি প্রস্তুত।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও অখণ্ডতা রক্ষা বিজিবির ঐতিহ্যের অংশ। পেশাদার সম্পর্কের মাধ্যমে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ নিরসনে বিজিবি কাজ করছে। তিনি আরও জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার ১৮৩টি পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা পূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলোর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা সহায়তা সহজ করতে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কুইক রেসপন্স ফোর্সসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
বিজিবি পরিচালক আরও জানান, পূজা চলাকালে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হবে। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে বলেন, নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনী ও প্রশাসন তাদের পাশে রয়েছে। এই নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবির বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল রয়েছে। এসব মাদক চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত ১ হাজার ৫৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ অস্ত্র বিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, ১টি এসএমজি, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের ঘটনায় মোট ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মানবপাচার প্রতিরোধে ৪২ জনকে উদ্ধার এবং ২০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি পরিচালক আরও জানান, জোরপূর্বক পুশ-ইনের অপচেষ্টা মোকাবিলায় বিজিবি দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে পুশ-ইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া কৃষি উৎপাদন ও পণ্যের সরবরাহ সুরক্ষায় প্রায় ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। এসব দায়িত্ব পালনে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, ড্রোন ও রাতের পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।





