ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১,৩০০ কোটির নতুন প্রকল্প

Published: September 29, 2026, 4:25 am

দেশের ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সুরক্ষা জোরদারে সরকার একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। 'ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২' (এফএসএসপি-২) শীর্ষক এই পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ক্রয় কার্যক্রম আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনা হবে। পাশাপাশি নীতিগত পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা প্রদান করবে এবং বাকি ১৪ কোটি টাকা আসবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যাংক পুনর্গঠন, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের সংস্কারে সহায়তা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাইবার ঝুঁকি ও আন্তসীমান্ত আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। প্রকল্পটির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম কেনার জন্য ৭১১ কোটি টাকা এবং কম্পিউটার সফটওয়্যার কেনার জন্য ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে তদারকি সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্বিতীয় ধাপে আর্থিক খাতের সুরক্ষা ও সংস্কার এবং তৃতীয় ধাপে প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া আমানত বিমা তহবিলের (ডিআইটিএফ) সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক অবসায়ন বা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণ খাতে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় ৩ হাজার ৫৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া পরামর্শক সেবার জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ৬৫ কোটি ও ব্যক্তি পর্যায়ে ২৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে অনুমোদিত প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পটির ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মার্চে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যদিও প্রকৃত ব্যয় হয়েছিল ২৬২ মিলিয়ন ডলার।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo