ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বৈঠকে বন্দর বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে গুরুত্ব বাংলাদেশের

Published: October 9, 2026, 3:03 am

দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর নয়াদিল্লিতে পুনরায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কর্মদলের বৈঠক। ১৬তম এই দুই দিনের বৈঠকের প্রথম দিনে বাংলাদেশ পক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভারতের বন্দর-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করেছে। বৈঠকে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজীকরণ, পণ্যের মানদণ্ডের সমন্বয় এবং বাণিজ্য বাধা দূর করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই বৈঠক শুক্রবারও চলমান থাকবে। বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার। প্রতিনিধি দলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

বৈঠকের আলোচ্যসূচির মধ্যে স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। এছাড়া সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, এলসিএসের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ এবং সাফটা’র উৎপত্তির নিয়মসহ বিভিন্ন কারিগরি বাণিজ্য ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করেছে।

অন্যদিকে ভারতও আলোচনার টেবিলে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলার সুতার ওপর আরোপিত বন্দর-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়টি অন্যতম। এছাড়া এসিএমপি, পণ্যের মানদণ্ড, রেলপথ ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পেয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষই নিয়মিত গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

এর আগে গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কারিগরি আলোচনার প্রস্তাব দিলে ভারত তাতে সম্মতি জানায়। মূলত ৭ ও ৮ অক্টোবর বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিনিধি দলের যাত্রাসংক্রান্ত জটিলতায় সূচি একদিন পিছিয়ে ৮ ও ৯ অক্টোবর পুনর্নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য, দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কর্মদলের সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin