জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৭ শতাংশে নেওয়ার বড় লক্ষ্য সরকারের

Published: September 27, 2026, 3:07 am

দেশের পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান বর্তমানের ২-৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের পর্যটন খাতের মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদ করার কাজ শেষ করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই মাস্টারপ্ল্যানের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার। তিনি বলেন, পর্যটন খাতের প্রকৃত চিত্র এবং তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি দূর করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অধীনে বর্তমানে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট তৈরির কাজ চলছে। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতের কর্মসংস্থান, পর্যটকের সংখ্যা, জিডিপিতে অবদান এবং ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড পর্যটনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসবে, যার ওপর ভিত্তি করে পর্যটকদের আগ্রহের জায়গাগুলোর উন্নয়ন করা হবে।

বাংলাদেশে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, সিলেটের চা-বাগান এবং পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও মহাস্থানগড়ের মতো ঐতিহাসিক নিদর্শন থাকা সত্ত্বেও জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান এখনও সীমিত। খাত সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত হোটেল-মোটেল, পর্যাপ্ত বিনোদন সুবিধা, তথ্যকেন্দ্র ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের পর্যটন ব্র্যান্ডিং ও বিপণনেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।

বেসরকারি উদ্যোক্তারা কক্সবাজার, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল বিনিয়োগ করলেও অনুকূল পরিবেশের অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে হলে বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে বাংলাদেশকে 'রেড মার্ক' বা উচ্চ সতর্কতাপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার যে তালিকা রয়েছে, তা পরিবর্তন করা জরুরি। এজন্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন ও diplomatic যোগাযোগ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষায়িত হেল্পলাইন চালুকরণ এবং বিশ্বখ্যাত ট্রাভেল ব্লগার ও ইনফ্লুয়েন্সারদের আমন্ত্রণের মাধ্যমে 'নিরাপদ বাংলাদেশ' বার্তাটি প্রচারের আহ্বান জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক হসপিটালিটি সেক্টর নিয়ে কর্মরত ওয়েসিস কনসোর্টিয়ামের প্রধান নির্বাহী জুয়েল খান জানান, বিশ্বমানের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও যথাযথ আন্তর্জাতিক বিপণন ও মানসম্মত সেবার অভাবে বাংলাদেশ কাঙ্ষ্কৃত পর্যটক পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ইকো-ট্যুরিজম, কালচারাল ও অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে আলাদা ব্র্যান্ডিং করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটনসেবার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে budget বরাদ্দ বৃদ্ধি, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর করা, পর্যটন পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার, ই-ভিসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের হোটেল-রেস্তোরাঁয় করছাড় ও প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন'। এ উপলক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

পর্যটন খাতে উৎকর্ষ ও টেকসই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এবারই প্রথম ১৩টি ক্যাটাগরিতে 'বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬' প্রদান করা হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু পরিকল্পনা বা পুরস্কার নয়, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে মাস্টারপ্ল্যানের সফল বাস্তবায়নই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh