২৩ বছরেও চালু হয়নি রূপগঞ্জের বালু নদের সেতু, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

Published: October 25, 2026, 2:57 am

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাঝিনা-কায়েতপাড়া-ত্রিমোহনী সড়কে বালু নদের ওপর সেতু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার ২৩ বছর পরও সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ২৭ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সেতুর নির্মাণকাজের সর্বশেষ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এর আগে ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতির পর দরপত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে বালু নদের সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু একপর্যায়ে বিভিন্ন মহলের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। থমকে থাকা এই সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তিনি সংসদে দাবি জানান।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে মাঝিনা-কায়েতপাড়া-ত্রিমোহনী সড়কের বালু নদের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ পায়। সওজের তত্ত্বাবধানে এক বছরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হোসেন জানান, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে সেতু নির্মাণের বিপরীতে মাত্র ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর কোনো নতুন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি এবং টাকাও তোলা যায়নি। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিমেন্ট, রড, বালু ও পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম দরপত্রের শিডিউলের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। ফলে নির্মাণকাজে চরম স্থবিরতা নেমে আসে এবং নানা প্রতিকূলতায় দীর্ঘ ২৩ বছরেও কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে অসমাপ্ত সেতুটির কাজ নতুন করে শুরু করতে ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। সে সময় প্রকল্পটিতে প্রায় ১৩ কোটি টাকা নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স সরদার এন্টারপ্রাইজ (জেভি) যৌথভাবে কাজের দায়িত্ব পায় এবং ২০২১ সালের মে মাস থেকে কাজ শুরুর কথা নির্ধারিত হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে দ্বিতীয় দফাতেও সেতুটির নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে নির্মাণ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদের বুকে দুটি পিয়ার, পিয়ারের কলাম, ক্যাপ, এক পাশের উইংওয়াল ও এবার্টমেন্ট দেয়াল দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়কের ইটের সলিং উঠে গিয়ে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে এবং খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা ব্যবহৃত রডে মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু জানান, মাত্র একটি সেতুর অভাবে রূপগঞ্জ ও আশপাশের লাখো মানুষকে ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে রাজধানী ঢাকায় যেতে হচ্ছে। এটি নির্মিত হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ সহজ হতো এবং ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট কমে আসত। তিনি জানান, সেতুটি ঘিরে লাখো মানুষ আশা নিয়ে থাকলেও বারবার সেই স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে, তবে বর্তমানে সেতুটি নিয়ে নতুন উদ্যমে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকার বালু নদের সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শিগগিরই সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, ঢাকার পূর্ব মাদারটেক ও সবুজবাগ হয়ে বালু নদ পার হয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় যাতায়াত অনেক সহজ হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বালু নদের এই সেতু নির্মাণে নতুন উদ্যমে পরিকল্পনা হচ্ছে। বালু সেতু নির্মাণ হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সেতুবন্ধন তৈরি হতো। কমে যেত রাজধানী ঢাকার যানজট আর দূরত্ব। একটি মাত্র সেতুর জন্য রূপগঞ্জসহ আশপাশের লাখো মানুষকে ১২-১৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে রাজধানী ঢাকায় যেতে হয়। সেতুটি নিয়ে দুই দফায় টেন্ডারও হয়েছে। সেতুটিকে ঘিরে লাখো মানুষ বুকভরা আশা আর স্বপ্ন নিয়ে আছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বারবার ভেঙে যাচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ঢাকার পূর্ব মাদারটেক, সবুজবাগ হয়ে বালু নদের সেতু পার হয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় সহজেই আসা-যাওয়া করা যাবে। সেই দিক থেকে বালু নদের সেতুটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। বালু নদের সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh