এআই অ্যাপ ব্যবহারে কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত তথ্য?

Published: October 16, 2026, 10:30 am

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুলগুলো পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ তথ্যের প্রয়োজন হয়। এই তথ্যের একটি বড় অংশ আসে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে, যার মধ্যে ব্যক্তিগত ছবি, লেখা এমনকি কণ্ঠস্বরও অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রতিদিন যত বেশি মানুষ এসব অ্যাপ ব্যবহার করছেন, ততই এআইয়ের বিশাল তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে।

একটি সাধারণ উদাহরণ হতে পারে রাফসানের মতো কোনো ব্যবহারকারী, যিনি সকাল আটটায় শখের বশে কোনো এআই অ্যাপে নিজের ছবি আপলোড করে মজার কার্টুন তৈরি করলেন। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তিনি হয়তো লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে আনন্দ পাচ্ছেন, কিন্তু একবারও ভাবছেন না যে সেই ছবি এখন কোথায় জমা থাকছে, কারা সেটি দেখছে বা ভবিষ্যতে সেটি কীভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

মূল সমস্যাটি হলো, আমরা বেশিরভাগ অ্যাপের শর্তাবলি বা ‘টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ না পড়েই কেবল ‘অ্যাগ্রি’ বাটনে ক্লিক করে এগিয়ে যাই। এর ফলে অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে বিজ্ঞাপন দেখানো থেকে শুরু করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অপব্যবহৃত হতে পারে।

তাই কোনো এআই অ্যাপ ব্যবহার করে মজা করার আগে কিছুটা সময় নিয়ে ভাবা জরুরি। অ্যাপটি কোনো বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের কি না, তা যাচাই করে নিন। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের অনুমতি বন্ধ রাখুন এবং কোনো সংবেদনশীল ছবি বা তথ্য শেয়ার করার আগে দুবার চিন্তা করুন। স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করুন কোন অ্যাপ কী কী অনুমতি নিয়ে রেখেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর অনুমতি বাতিল বা বহাল রাখুন। সুবিধা আর নিরাপত্তা—দুটোই একসঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব, যদি ব্যবহারকারী সামান্য সচেতন থাকেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo