ভারতের তিন রাজ্যে অস্ত্র পাচার চক্রের সন্ধান, ৪৪ হাজার কার্তুজ উদ্ধার

Published: November 8, 2026, 6:07 pm

ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত একটি বৃহৎ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এই তিন রাজ্যের স্পেশাল টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধারসহ জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম মিল্লাত টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পাটনা পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিহারের আরা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিহার এসটিএফ ১৯ হাজারের বেশি কার্তুজ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় চন্দন তিওয়ারিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, পাচার চক্রটির মূল শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে উত্তর প্রদেশের বদায়ূঁ জেলায়। পরে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে আরও কয়েক হাজার কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে হরিয়ানা এসটিএফ ঝজ্জরের রোহদ টোল প্লাজার কাছে দুটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৫ হাজার গুলি ও আটটি মুঠোফোন উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বদায়ূঁ জেলার বাসিন্দা মুন্না খান, আসিম রইস, সবলু খান, আরবাজ আলী ও জিনাত নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ‘বদায়ূঁ গান হাউস’-এর মালিক মুন্না খান সিরাজা এলাকায় অবস্থিত ‘মেহক গান হাউস’-এর মালিক বিজয় গোয়েলের কাছ থেকে এসব কার্তুজ সংগ্রহ করেছিলেন।

এদিকে চন্দন তিওয়ারি ও তাঁর ভাই অভিষেক তিওয়ারির গ্রেপ্তারের পর কিছু ছবি প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবিতে দুজনকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) পোশাক পরিহিত অবস্থায় এবং অন্য একটি ছবিতে মুজাফফরপুরের এক স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে দেখা যায়। অভিষেক তিওয়ারি এর আগেও একটি অস্ত্র পাচার মামলায় কারাবাস করেছেন। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কেবল পোশাক পরা ছবির ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক যোগসূত্র নিশ্চিত করা যায় না এবং তদন্তে এই চক্রের সঙ্গে আরএসএসের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি।

উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ কার্তুজ সরকারি অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বা সমরাস্ত্র কারখানায় তৈরি হওয়ায় এর উৎস নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি কারখানার কার্তুজ কীভাবে বেআইনি পাচারকারীদের হাতে পৌঁছাল, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে জাল লাইসেন্স বানিয়ে ১০০টি পিস্তল সরবরাহের মামলায় বিহারের ‘জালান শপ’ নামক অস্ত্র বিপণির নাম এসেছিল; বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সেই চক্রের সংযোগ আছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ইতিমধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে সরবরাহের মূল উৎস, ষড়যন্ত্রকারী এবং এই গোলাবারুদের চূড়ান্ত ক্রেতাদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo