দেশের ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে সরকার

Published: November 8, 2026, 6:45 pm

দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যায়ক্রমে মোট ৬৪টি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে ‘আন্তর্জাতিক কেয়ারারস দিবস ২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে সরকার আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছেলে, মেয়ে, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজ (এনডিডি) কিংবা নন-এনডিডি নির্বিশেষে সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার বদ্ধপরিকর।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও মালিকদের প্রতি তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সার্বক্ষণিক পরিচর্যায় নিয়োজিত অভিভাবকদের ত্যাগের কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, যেসব বাবা-মা সন্তানদের পরিচর্যার কারণে পেশায় যুক্ত হতে পারেন না, তাদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা এবং কাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য কেবল আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, বরং তাদের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

শিক্ষক সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষাদানের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষকের অভাব রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য মাত্র একটি সরকারি কলেজ রয়েছে, যা দ্রুত বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়ক উপকরণ তৈরির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আধুনিকায়ন করা হবে। সাভারে আন্তর্জাতিক মানের অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলেও তিনি জানান, যাতে আন্তর্জাতিক প্যারা অলিম্পিকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা সাফল্য অর্জন করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় তিন শতাধিক কেয়ারার তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং একটি সমন্বিত ‘জাতীয় কেয়ারার কাঠামো’ গড়ে তোলার দাবি জানান। কেয়ারারস অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল মুনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব কামরুজ্জামান দুলাল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh