৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর সংস্কার কাজ সম্পন্ন

Published: November 8, 2026, 3:30 pm

চীন সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সফলভাবে শেষ হয়েছে ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (মুক্তারপুর সেতু) সংস্কার প্রকল্প। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়া উপলক্ষে রবিবার (৮ নভেম্বর) মুন্সীগঞ্জের ঢালী আম্বার নিভাস রিসোর্টে এক সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মূল অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিনিধিবৃন্দ যৌথভাবে সংস্কার করা সেতুর বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন, চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর সং ইয়াং এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ১৮তম ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানী লিমিটেডের আন্তর্জাতিক ব্রাঞ্চের জেনারেল ম্যানেজার জ্যু ডিয়েন। এছাড়া সেতু কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী, পরামর্শক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী আয়োজনে বক্তারা বলেন, মুন্সীগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকার যাত্রী যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মুক্তারপুর সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেতুটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সার্বিক কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যেই দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে এই সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলো। এটি বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার অন্যতম উজ্জ্বল নিদর্শন।

বক্তব্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরকালে দেশটির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করে আশাবাদ প্রকাশ করা হয় যে, এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে আগামীতে যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু তৈরিতে চীন সরকারের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ জুলাই স্বাক্ষরিত Exchange of Letters-এর মাধ্যমে এই সংস্কার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক ভিত্তি স্থাপিত হয়। প্রকল্পটির ইপিসি ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে China Railway 18th Bureau Group Co. Ltd.। ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর শুরু হওয়া এই সংস্কার কাজ চলতি বছরের ২১ অক্টোবর সফলভাবে শেষ হয়।

প্রকল্পের আওতায় সেতুর বিয়ারিং প্রতিস্থাপন, বিমের নিচের অংশের কাঠামোগত শক্তিবৃদ্ধি, ফুটপাতের স্ল্যাব ও স্টিল প্লেট প্রতিস্থাপন ও সংস্কার, স্টিল মেইনটেন্যান্স প্ল্যাটফর্ম এবং ভার্টিক্যাল ল্যাডার স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি সেতুর রেলিং উন্নয়ন, রিফ্লেক্টিভ রোড স্ট্যাড ও রোড মার্কিং, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদার, পর্যবেক্ষণ পয়েন্ট নির্মাণ, Seismic Locking Device বসানো এবং নির্দেশনামূলক ও গতিসীমা সাইনবোর্ড স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

কাজ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যৌথ কারিগরি পরিদর্শন সম্পন্ন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় হস্তান্তরের জন্য As-built Drawings, রক্ষণাবেক্ষণ ম্যানুয়াল, চেকলিস্টসহ বিভিন্ন কারিগরি নথিপত্র প্রস্তুতের পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে দুই বছর মেয়াদি Quality Warranty Period নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের External Technical Acceptance Certificate হস্তান্তর করা হয়, যার মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। সমাপনী বক্তব্যে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ প্রকল্পের সাফল্য বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য চীন সরকার, চীনা দূতাবাস, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, পরামর্শক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শিগগিরই যৌথ সহযোগিতায় ২য় মুক্তারপুর সেতু (১০ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু) নির্মাণকাজ শুরু হবে, যা দেশের অবকাঠামো খাতকে আরও গতিশীল করবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin