জয়পুরহাটে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় হট্টগোল, ডিসির ক্ষমা প্রার্থনা

Published: November 7, 2026, 12:02 pm

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় তীব্র হট্টগোল ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এ ঘটনার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর সভা শুরু হয়। দুই দফায় চরম উত্তেজনার পর অনুষ্ঠানস্থলে জেলা প্রশাসক সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান অতিথি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সভা শুরুর আগে মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে ওঠেননি। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত মঞ্চে উঠে ব্যানারটি নামিয়ে ফেলেন এবং কসটেপ দিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার তাতে সাঁটিয়ে দেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে এলে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে সভা চলাকালে দ্বিতীয় দফায় আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান বক্তব্য দেওয়ার সময় শেখ মুজিবুর রহমানকে একাধিকবার ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ শুভ ও ইসলাম ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। তীব্র অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে ওই বক্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা সভাস্থলে ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ব্যানারটি ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছিল। এ ধরনের ত্রুটির জন্য তিনি উপস্থিত সবার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের নানামুখী ত্রুটি-বিচ্যুতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত বা ইচ্ছাকৃত কি না, তা খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রশাসনের ভেতরে থাকা চক্রকে দায়ী করে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই দিবস পালন করা হচ্ছে, অথচ শহীদ জিয়ার ছবি ছাড়াই ব্যানার তৈরি করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ।" অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বক্তব্য প্রদান করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy