পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অস্থিরতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি ছাত্রশিবিরের

Published: November 3, 2026, 2:18 pm

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ, হয়রানি বন্ধ এবং শ্রমিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ঢাকা, সাভার, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় পোশাকশ্রমিকরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আন্দোলনের কারণে ঢাকা, গাজীপুর ও আশুলিয়া এলাকার অন্তত ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনধারণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ২০২৩ সাল থেকে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকায় আটকে আছে। সম্প্রতি মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও একই বাজারের মুখোমুখি হওয়া পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বা ‘উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্ট দ্বিচারিতা। আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান না করে আন্দোলন দমনে সরকার প্রশাসনিক নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি চক্রান্তের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শ্রমিকদের এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি কিংবা কোনো বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি যাতে নাশকতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সব পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। পোশাক খাতের ব্যস্ততম মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশের রপ্তানি আয় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। সহিংস পথ পরিহার করে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বয়ে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব।

পরিস্থিতি নিরসনে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আহ্বান করা, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক মজুরি কাঠামো নির্ধারণ, শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন ও হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত পোশাকশ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া এবং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh